বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিদেশ থেকে ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হবে আমাদের আর্টিকেলে। আপনারা অনেকেই যারা প্রবাসে থাকেন তারা হালাল ভাবে ইনকামের জন্য, নিরাপদে দেশে টাকা পাঠানো, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের জন্য ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান।
বিদেশ-থেকে-ইসলামী-ব্যাংক-একাউন্ট-খোলার-নিয়মতবে বিদেশ থেকে কিভাবে দেশে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা বা সঠিক তথ্য না জেনে থাকলে আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পেজ সূচিপত্র: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানুন

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সকল প্রবাসীরা জানতে চাই। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের উদ্দেশ্য হলো নিজ দেশের ব্যাংকে নিরাপদে টাকা পাঠানো, সঞ্চয় করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। বর্তমান সময়ে ইসলামিক ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এই সমস্যার একটি সমাধান নিয়ে এসেছে। এখন আপনি যে কোন দেশ থেকে খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকে নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। 

আরো পড়ুনঃ মোবাইলে বিরক্তিকর এ্যাড বন্ধ করার উপায়

বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি হলো ইসলামী ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক সম্পূর্ণ ইসলামিক শরীয়ত ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি প্রবাসে থেকেও খুব সহজে ইসলামী ব্যাংকে নিজের নামে একটি একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন। যার ফলে আপনি নিরাপদে এবং সুদ মুক্ত লেনদেনে অর্থ নিজ দেশে পাঠাতে পারবেন। 

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া এখন খুব সহজ। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমে আপনাকে মোবাইল "সেলফিন" অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যবহার করে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ থাকা অবস্থায় ইসলামিক ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে বিদেশে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি দিতে হবে। 

ইসলামী ব্যাংক যদি আপনার আগে থেকেই কোন অ্যাকাউন্ট খোলা থাকে এবং আপনি সেই একাউন্টটি বিদেশে ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে সেলফিনের ওটিপি চ্যানেল পরিবর্তনের জন্য আপনাকে শাখায় বা তাদের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। বিদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার পূর্বে অবশ্যই আপনার দেশের ব্যাংকের নিয়ম এবং শর্তাবলী ভালোভাবে জেনে নিন।

বিদেশ থেকে ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট খোলার কারণ

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করে সেই টাকা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে। এই অর্থ নিরাপদে সংরক্ষণ ও ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী পরিচালনা করার জন্য ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার প্রধান কারণগুলো বিস্তারিতভাবে নিচে তুলে ধরা হলো:

আরো পড়ুনঃ মাস্টারকার্ড কিভাবে বানাবেন জানুন

  • হালাল ও ইসলামভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংকে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় সম্পূর্ণ ইসলামভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে। ইসলামী ব্যাংকে কোন রকমের সুদ গ্রহণ বা প্রদান করা হয় না। প্রবাসীরা যারা হালাল উপায়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ইসলামী ব্যাংক  সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থা।
  • নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী মানের লেনদেন ব্যবস্থা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের রয়েছে নিজেস্ব বিশ্বব্যাপী নিরাপদ লেনদেন ব্যবস্থা, যা ইসলামী ব্যাংক সুইফট কোড দ্বারা সারা বিশ্বের ব্যাঙগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। সুইফট কোড এর মাধ্যমে আপনি বিদেশে যেকোনো ব্যাংক থেকে সরাসরি ইসলামী ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারেন, যা দ্রুত ও নিরাপদ ভাবে জমা হয়। 
  • প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা ও সুবিধা: ইসলামী ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য আলাদা বিভাগ পরিচালনা করে থাকে যে বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রবাসীরা, প্রবাসী একাউন্ট, বিশেষ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সুবিধা, দ্রুত রেমিট্যান্স গ্রহণ, অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, করমুক্ত মুনাফা ও সরকার অনুমোদিত সুবিধা এই সকল সুবিধাগুলো প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিংকে সহজ, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক করেছে।
  • পারিবারিক আর্থিক সহায়তা পাঠানোর সহজ: বিদেশে থাকা প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হল দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এই কাজটা এখন অত্যন্ত সহজ। আপনি চাইলে এখন খুব সহজে সুইফট ট্রান্সফার, অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউস বা MTO ব্যবহার করে সরাসরি ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন। 
  • বিনিয়োগের সূচক ও হালাল মুনাফা অর্জন: ইসলামী ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য হালাল বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছে। মুদারাবা মেয়াদী আমানত হিসাব, প্রবাসী আয় উন্নয়ন বন্ড, মুদারাবা সঞ্চয় হিসাব একাউন্টে জমাকৃত অর্থ শরিয়াহ সম্মত বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয় এবং গ্রাহক পায় ন্যায্য ও হালার মুনাফা।

বিদেশ থেকে ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিদেশ থেকে এখন খুব সহজে আপনি ইসলামিক ব্যাংকে অনলাইন এর মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে পারবেন। বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য ইসলামী ব্যাংক নন রেসিডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা রেখেছে, যাতে প্রবাসীরা খুব সহজেই বিদেশে বসে নিরাপদভাবে টাকা জমা, লেনদেন এবং বিনিয়োগ করতে পারে। নন রেসিডেন্ট একাউন্ট এর মাধ্যমে প্রবাসীরা খুব সহজে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে খুব সহজে টাকা পাঠাতে পারে। 

নন রেসিডেন্ট একাউন্টে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় রাখার সুযোগ রয়েছে। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে নিয়ম উল্লেখ করা হলো:

  1. প্রবাসীদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টের ধরন: প্রবাসীরা বিদেশে বসে খুব সহজে যেসব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন সেগুলো হলো: মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবা মেয়াদি আমানত হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, ওয়াদিয়া চলতি হিসাব।
  2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পাসপোর্ট এর ছবি ও তথ্যসহ পৃষ্ঠার কপি, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট অথবা রেসিডেন্স পারমিট, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ, বাংলাদেশের নিকট আত্মীয়ের জাতীয় পরিচয় পত্র, নমিনি এর ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, প্রবাসী কর্ম সংস্থান কার্ড।
  3. অ্যাকাউন্ট ফ্রম পূরণ: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে দুটি উপায়ে ফরম পূরণ করা যায়। প্রথমটি হল অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে। অনলাইনের মাধ্যমে প্রথমে ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান, তারপরে মেনু থেকে "remittance / NRB Banking" এগিয়ে ওপেন একাউন্ট নির্বাচন সিলেক্ট করুন। অনলাইনে ফরমে আপনার তথ্যপূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন। ফরম সাবমিট করলে ব্যাংক থেকে ইমেইলে বা কলের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টটি যাচাই করা হবে।
  4. ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া: ব্যাংক আপনার ফরমে দেওয়া তথ্য যাচাই করে। প্রয়োজন হলে ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করবে। যাচাই করা শেষে অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও IBAN ইমেইলে পাঠিয়ে দেবে।
  5. টাকা জমা ও লেনদেন শুরু: অ্যাকাউন্ট একটিভ হওয়ার পর আপনি সুইফট ট্রান্সফার, ইসলামী ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউজ, মোবাইল অ্যাপ সেলফিন বাই ইসলামী ব্যাংক এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এরপর থেকে আপনি ব্যালেন্স চেক, টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, বিনিয়োগ ইত্যাদি করতে পারবেন মোবাইল অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং দিয়ে।

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে টাকা পাঠানোর নিয়ম

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকের টাকা পাঠানো এখন খুব সহজ এবং নিরাপদ। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকের টাকা পাঠানোর জন্য রেমিটেন্স সার্ভিস ব্যবহার করে অথবা সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে এবং নিরাপদে টাকা পাঠানো যায়। রেমিটেন্স সার্ভিস ব্যবহার করলে প্রাপকের নাম, অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ব্যাংকের তথ্য দিয়ে কোন নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে টাকা দেশে পাঠানো হয়, যেটা সরাসরি ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে জমা হয়। 

আরো পড়ুনঃ ফেসবুক পেজ মনিটাইজেশন পলিসি

অন্যদিকে সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করলে সরাসরি কোন এজেন্সি ছাড়াই টাকা পাঠানো যাই, যেটি সরাসরি প্রাপকের একাউন্টে জমা হয়। ইসলামী ব্যাংকে টাকা পাঠানোর জন্য আপনি নিচের যেকোনো বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন:

বিদেশ-থেকে-ইসলামী-ব্যাংকে-অনলাইনে-একাউন্ট-খোলার-সুবিধা

রেমিটেন্স সার্ভিস ব্যবহার করে

  1. প্রাপকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ: প্রাপকের সম্পূর্ণ নাম, অ্যাকাউন্ট নাম্বার, শাখার নাম, সুইফট কোড এবং প্রাপকের ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার সঠিকভাবে লিখুন।
  2. এজেন্ট লোকেশন: টাকা পাঠানোর জন্য কোন আন্তর্জাতিক মানসম্মত মানি ট্রান্সফার এজেন্সির অফিসে যেতে হবে।
  3. ফর্ম পূরণ: টাকা পাঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ফর্মটি সঠিক তথ্যের সাথে পূরণ করুন। 
  4. টাকা জমা দিন: মানি ট্রান্সফার এজেন্টকে প্রয়োজনীয় অর্থ এবং সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করুন। 
  5. ট্রাকিং: প্রাপকের একাউন্টে টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেকিং নাম্বার পাবেন, যা দিয়ে আপনি টাকা পাঠাচ্ছেন কিনা তা ট্যাগ করতে পারবেন।

মোবাইলে সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করে

  1. সেলফিন অ্যাপ: বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর জন্য সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
  2. অ্যাকাউন্ট ছাড়া টাকা পাঠানো: এই পদ্ধতিতে প্রাপকের ইসলামিক ব্যাংকে কোন একাউন্ট না থাকলেও টাকা পাঠানো সম্ভব, যা সরাসরি প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাবে।
  3. সিম রোমিং: এসে থাকা অবস্থায় যদি আপনার দেশের নম্বর দিয়ে সেলফিন অ্যাপে রেজিস্টার করা থাকে, তাহলে মোবাইল কোম্পানি থেকে সিম রোমিং করে নিতে হবে। 
  4. অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন: বিদেশ থেকে সেলফিন অ্যাপ এ রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আপনার সিম কার্ডে অবশ্যই এসএমএস রোমিং চালু থাকতে হবে, তা নাহলে আপনি টাকা পাঠাতে পারবেন না।

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা

এখন খুব সহজে এবং নিরাপদে বিদেশে বসে থেকেও ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা সম্ভব। বাংলাদেশী অনেক প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর জন্য সহজ এবং নিরাপদ উপায় হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে বেছে নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য এখন আর শাখায় এসে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে একাউন্ট খোলা যায়। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য ইসলামী ব্যাংক এখন এই সেবাটি চালু করেছে। 

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সুবিধা হলো, আপনি বিদেশ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে পারবেন, যেখানে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা যেমন ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ এবং এটিএম এর মাধ্যমে ২৪/৭ টাকা উত্তোলন বা লেনদেন করতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংকের বড় সেবা হল আপনি বিদেশ থেকেও সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন এবং ব্যাংকের বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সুবিধা গুলো নিচ্ছে আলোচনা করা হলো:

  • অনলাইন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা: অনেক ইসলামী ব্যাংকে এখন তাদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়েছে। মাধ্যমে আপনি দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে পারবেন। 
  • ইসলামী ব্যাংকের সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই: যেহেতু আপনি বিদেশে অবস্থান করছেন, সেক্ষেত্রে স্বশরীরে ব্যাংকের যাওয়া ছাড়াই খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে আমি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। 
  • ইন্টারনেট ব্যাংকিং: আপনি ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে কোন জায়গা থেকে খুব সহজে আপনার অ্যাকাউন্টের সকল তথ্য দেখতে পারবেন এবং লেনদেন করতে পারবেন।
  • মোবাইল অ্যাপ: মোবাইলে নিজস্ব সেলফিন অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। 
  • এটিএম এর সুবিধা: আপনি ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো এটিম বা সিআরএম থেকে ২৪ ঘন্টা টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
  • মোবাইল ব্যাংকিং: আপনি মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধার মাধ্যমে দেশে যে কোন স্থান থেকে টাকা জমা, টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল রিচার্জ করতে পারবেন।
  • হস্তান্তর: ইসলামী ব্যাংকে এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে মুহুর্তে টাকা পাঠানো সম্ভব। 

ইসলামী ব্যাংকের নীতিমালা ও সেবা সমূহ

ইসলামিক ব্যাংক হলো ইসলামিক ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। ইসলামিক ব্যাংকে কোনো রকম সুদের প্রচলন নাই। ইসলামিক ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ব্যাংক নামে পরিচিত, বাংলাদেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ শরীয়ত ভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক। ইসলামিক ব্যাংক ১৯৮৩ সালের ১৩ ই মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামী ব্যাংকে মূল উদ্দেশ্য হলো সুদবিহীন ও ইসলামিক নীতিমালা সম্মত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা। তাদের মূল লক্ষ্য অর্থনীতি পরিচালিত হবে ইসলামের ন্যায়নীতি ও মানব কল্যাণের লোক্ষে। 

ইসলামী ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের মতে হলেও এর নীতিমালা সম্পূর্ণ আলাদা, ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হয় ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী। ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এখানে সুদ নেওয়া বা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সব ধরনের লেন দেন হয় লাভ-ক্ষতির অংশী দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে। ব্যাংকের সব কার্যক্রম একটি ইসলামিক সুপারভাইজারী কমিটি পর্যবেক্ষণ করে, যারা নিশ্চিত করেন যে প্রতিটি লেনদেন ইসলামিক বিধান অনুযায়ী হচ্ছে,। 

ইসলামিক ব্যাংকের নীতিতে সব গ্রাহকের প্রতি সমান আচরণ, ন্যায্য মুনাফা বন্টন ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। ইসলামী ব্যাংক শুধু মুনাফা অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজের দারিদ্র দূরীকরণ, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি ও মানবকল্যাণে কাজ করে। ইসলামি ব্যাংক শুধু হালাল ব্যবসা ও প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। যেমন: কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ইত্যাদি। ইসলামিক ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি, যা শহর ও গ্রামে বিস্তৃত হাজারো সেবা প্রদান করে।

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় বাংলাদেশী প্রবাসীরা ইসলামী ব্যাংকে অনলাইন এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

প্রশ্ন: কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট বিদেশ থেকে খোলা যায়?

উত্তর: বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় সাধারণত, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবা মেয়াদি আমানত হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, ওয়াদিয়া চলতি হিসাব অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। 

প্রশ্ন: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য কি কি কাগজপত্র দরকার?

উত্তর: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য পাসপোর্টের কপি ভিসা পৃষ্ঠা সহ, প্রবাসী বাংলাদেশে আইডি যদি থাকে, পাসপোর্ট সাইজ ছবি দুই কপি, বর্তমান ঠিকানা, প্রাপকের ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ব্যাংকের নির্ধারিত ফর্ম প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন: অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, মোবাইলে ইসলামিক ব্যাংক সেলফিন অ্যাপ বা ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইন একাউন্ট খোলা যায়।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলার পর বিদেশ থেকে কিভাবে টাকা পাঠানো যায়?

উত্তর: ইসলামি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার পর বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে পারবেন- সুইফট কোড, মানি ট্রান্সফার এজেন্সি, অনলাইন এক্সচেঞ্জ হাউস এর মাধ্যমে। 

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের সুইফট কোড কি এবং কেন প্রয়োজন?

উত্তর: ইসলামী ব্যাংকের সুইফট কোড হলো IBBLBDD। এই কোডটি আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের সময় ব্যাংক শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজন হয়। 

প্রশ্ন: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কত টাকা লাগে:

উত্তর: সাধারণত বিদেশ থেকে ইসলামিক ব্যাংকে একাউন্ট খোলার জন্য থেকে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা প্রাথমিক জমা হিসেবে প্রয়োজন হয়। 

প্রশ্ন: প্রবাসী ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট এর সুবিধা কি?

উত্তর: প্রবাসী ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট গুলোর সুবিধা হল- হালাল ওষুধ মুক্ত ব্যাংকিং, বিদেশ থেকে খুব সহজে এবং নিরাপদে দেশে টাকা পাঠানো যায়, অনলাইনের মাধ্যমে ব্যালেন্স চেক করা যায়, বিনিয়োগ ও ডিপোজিট স্কিম।

লেখক এর শেষ কথা: বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা

বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে সকল তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ থেকে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সকল প্রবাসীরা জানতে চাই। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের উদ্দেশ্য হলো নিজ দেশের ব্যাংকে নিরাপদে টাকা পাঠানো, সঞ্চয় করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। বর্তমান সময়ে ইসলামিক ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এই সমস্যার একটি সমাধান নিয়ে এসেছে। এখন আপনি যে কোন দেশ থেকে খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকে নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। 

আমাদের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনারা বিদেশ থেকে ইসলামিক ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। এবং খুব সহজে এবং নিরাপদে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে নিতে পারবেন। আপনারা যদি এরকম আরো তথ্য নির্ভর আর্টিকেল পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের ফলো করুন এবং নিয়মিত ভিজিট করুন। আমাদের সঙ্গে থাকুন ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এট্রাকশন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url