আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
পেজ সূচিপত্রঃ আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিত - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সকল তথ্য জানুন
- আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
- আমলকি খাওয়ার সাধারণ উপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় কি পরিমান আমলকি খাওয়া উচিত
- গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
- গর্ভাবস্থায় কোন কোন ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
- গর্ভাবস্থায় কোন কোন সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
- গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার অপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখক এর শেষ কথা: আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা
আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সবার সঠিক তথ্য জেনে রাখা উচিত। গর্ভাবস্থা এমন একটি সময় যখন গর্ভবতী মায়ের শরীরের পুষ্টিকর খাবার ও যত্ন ভবিষ্যৎ শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভের শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কোন ফল বা খাবার যুক্ত করা উচিত তা, জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিতি একটি ফল হল আমলকি। প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান পর্যন্ত আমলকির উপকারিতা সর্বস্থানে ছড়িয়ে আছে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কচুশাক খাওয়ার উপকারিতা
আমলকি ফল ছোট আকারের সবুজ এবং হলুদ রঙ্গের হয়ে থাকে। আমলকি একটি টক মিষ্টি জাতীয় ফল। টক মিষ্টি হওয়ার কারণে সকলের খুব পছন্দ করে খেতে। কিন্তু আপনারা কি জানেন আমলকি আপনার শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একজন গর্ভবতী মায়ের মায়ের ও গর্ভের শিশুর শারীরিক সুস্থতার জন্য আমলকি খাবার উপকারিতা অনেক। আমলকি হতে পারে একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য পুষ্টির সমাহার। গর্ভাবস্থায় প্রায় সবারই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়।
সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সমাধান। আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি যা শরীরে আয়রন শোষণ ক্ষমতা দ্বিগুণ করে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে। গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মহিলা অনেক রকম দুশ্চিন্তা করে, ক্ষেত্রে তাদের মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে আমলকি। আমলকিতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোন বৃদ্ধি করে, গর্ভবতী মায়ের মানসিক চাপ কমায় এবং ঘুম ভালো করে। আমলকি খাওয়ার এত কিছু উপকারিতার মধ্য বেশ কিছু অপকারিতা ও রয়েছে।
আমলকি খাওয়ার আগে অবশ্যই আমাদেরকে নিয়ম মেনে এবং সতর্কভাবে খেতে হবে। আমলকি পুষ্টিকর বলে কখনোই পরিমাণে খাবেন না। করে আপনার পাকস্থলীতে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। কাঁচা আমলকি ঠান্ডা কাশি বাড়াতে পারে। খালি পেটে কখনোই আমলকি খাবেন এতে করে বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। ডায়রিয়া এবং হজমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় আমলকী খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
আমলকি খাওয়ার সাধারণ উপকারিতা
আমলকি একটি টক জাতীয় সুস্বাদু ফল, প্রায় সবাই খেতে পছন্দ করে। আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান। আমলকি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। আমলকির গুনাগুন এতটা বেশি যে এটি শরীরের প্রায় সব অঙ্গের ওপর সঠিক প্রভাব ফেলে। নিচে আমলকি খাওয়ার সাধারণ উপকারিতা গুলো তুলে ধরা হলো:
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কিচমিচ খাওয়ার উপকারিতা
- প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার শরীরে ফ্রি র্যাডিকাল ধ্বংস করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। নিয়মিত আমলকি খেলে ঠান্ডা, কাশি ইত্যাদি থেকে শরীর রক্ষা পায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি ও পেটের সমস্যা দূর করে: আমলকি শরীরে এনজাইম উৎপাদনের সাহায্য করে এবং হজম শক্তি উন্নয়ন করে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা, গ্যাস্টিক, কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে। হজম ভালো করতে খাওয়ার পর অল্প পরিমাণে আমলকি খেতে পারেন।
- হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়: আমলকিতে রয়েছে ক্রোমিয়াম যা রক্তে বিষাক্ত কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমায় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। আমলকি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমলকি খুবই উপকারী। আমলকি শরীরের ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।
- মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে: আমলোকিতে হয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট ও আয়রন যা মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বৃদ্ধি করে। ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা উন্নত হয়।
- ত্বক ও চুলের যত্নে: আমলকি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে তাদের জন্য আমলকি বেশ উপকারী। কারণ আমলকি চুল পড়া বন্ধ করে চুলের গোড়ায় শক্তি যোগায়।
- চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে: আমলোকিতে রয়েছে ভিটামিন এ ও ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে এবং রেটিনার কোষগুলোকে সুস্থ রাখে।
গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভকালীন সময় এমন একটা সময় যে সময় নারীরা টক খাবার একটু বেশি খেতে পছন্দ করে। গর্ভকালীন সময়ে নারীদের খাবার রুচি পরিবর্তন হয়। গর্ভকালীন সময় নারীদের পুষ্টিকর খাবার বেশি প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী নারী যত পুষ্টিকর খাবার খাবে তার গর্বের সন্তান ভালো ও সুস্থ থাকবে।আমলকি একটি টক জাতীয় ফল, এবং সুস্বাদু খাবার। আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এইজন্য গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য আমলকি একটি পুষ্টিকর খাবার। গর্ভাবস্থায় আমলকি খেলে আপনি কি কি উপকারিতা পাবেন সেগুলো বর্ণনা করা হলো:
- আমলকি তে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরে আয়রন শোষণ ক্ষমতা বাড়ায় গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের ঘাটতি পূরণ করে।
- গর্ভাবস্থায় একটি বড় সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য, আমলকি আশ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
- আমলকি রয়েছে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।
- আমলকি তে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর সমাহার, যা গর্ভবতী মা ও শিশুর হাড় এবং দাঁতের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে।
- ইমিউনি সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে আমড়া খাওয়া জরুরী, কারণ আমলকি তে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার শরীরের ইমিউনি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে ফলে মা ও শিশুকে সহজে ব্যাকটেরিয়া বা সংক্রমণ আক্রান্ত করতে পারে না।
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত বমি হওয়ার ফলে মুখে অরুচি তৈরি হয়, মুখের অরুচি ভাব দূর করতে টক ও সুস্বাদু আমলকি মুখে রুচি আনে ও বমি বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় কি পরিমান আমলকি খাওয়া উচিত
- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য দিনে ১ টি ছোট আমলকী কাঁচা অথবা ১০-১৫ মি.লি আমলকী অথবা ১চামচ শুকনো আমলকী গুড়ো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।
- গর্ভাবস্থায়ী দিনে এক থেকে ১ টির বেশি আমলকি খেলে টকভাবের কারণে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া, পাকস্থলীতে এসিডিটি হতে পারে।
- গর্ভাবস্থায়ী সপ্তাহে ৩-৪ দিন আমলকি খাওয়া শরীরের জন্য যথেষ্ট। অনেকে মনে করি প্রতিদিন খেলে পুষ্টি পাব, তবে তা নয় প্রতিদিন না খেলেও সঠিক পুষ্টিটি আপনি পাবেন।
আমড়া খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি:
- অবশ্যই খাওয়ার আগে আমড়া ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন। এতে আমলকি তে থাকা কীটনাশক বা ধুলাবালি দূর হয়ে যাবে।
- আমরা অনেকেই আমড়া স্বাদ করে খাওয়ার জন্য লবণ, মরিচ দিয়ে মাখিয়ে খেতে পছন্দ করি, কিন্তু গর্ভাবস্থায় এটি এড়িয়ে চলা উচিত কারণ অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
- কাঁচা আমলকী চাটনি অথবা জুস হিসেবে খেতে পারেন। শুকনো আমলকী গুড়ো পানির শাতে
- আমড়া খাবার পর ১-২ ঘন্টা পর খেলে এটি হজমের সাহায্য করে।
- যদি আপনার পাকস্থলীতে এসিডিটি বা পেট ব্যথা থাকে, তবে আমড়া খাওয়া বন্ধ করে দিন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় কোন কোন ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
গর্ভাবস্থায় পুষ্টির আশায় আমরা অনেক ধরনের ফল খেয়ে থাকি। তবে আমরা কি জানি অবস্থায় কোন ফল খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য উচিত নয়। অনেকেই জানিনা, এ বিষয়ে আমরা কখনো ভেবেই দেখিনি। তবে গর্ভাবস্থায় নিজে এবং গর্ভের সন্তান কে সুস্থ রাখার জন্য সঠিক পুষ্টিটি বাছাই করে নিতে হবে। গর্ভাবস্থায় ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে এমন কিছু ফল আছে যা স্বাস্থ্যের ও গর্ভবতী নারীদের জন্য নিরাপদ নায়। এমন কিছু ফল আছে যেগুলো আপনি গর্ভাবস্থায় খেলে আপনার গর্ভপাত, পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি, রক্তচাপ বৃদ্ধি ও হজমের সমস্যা করতে পারে। গর্ভাবস্থায় যেগুলো ফল আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় তার সম্পর্কে বিস্তারিত জনুন:
- কাঁচা বা আদা পাকা পেঁপে: পেঁপে পুষ্টিকর তবে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরাপদ নাই। কারণ কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে ল্যাটেক্স নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, যার জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- আনারস: আনারসে রয়েছে ব্রোমেলাইন, যা জরায়ুর গর্ভমুখ নরম করে এবং প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তিন মাসে এই মানুষের সৃষ্টি হতে পারে।
- কালো আঙ্গুর: কালো আঙ্গুরের রেসভেরাট্রল নামক এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার রক্তে চিনি ও রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় তিন মাসে কালো আঙ্গুর বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে। তবে আপনি চাইলে কম পরিমাণে সবুজ আঙ্গুর খেতে পারে।
- কাচা আম বা অতিরিক্ত টক ফল: কাঁচা আম, কাঁচা আমড়া অতিরিক্ত টক ফল পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বুক জ্বালাপোড়ার বাড়িয়ে দেয়।
- জামরুল ও তেতুল: জামরুলে পানির পরিমাণ বেশি থাকলে এতে রক্ত চাপ বাড়তে পারে। তেতুলে টকভাব বেশি, যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি ও দাঁতের ক্ষয় ঘটাতে পারে।
- ড্রাই ফ্রুট বেশি খাও: ড্রাই ফ্রুট যেমন কাজুবাদাম, আখরোট, কিশমিশ পুষ্টিকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ওজন রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিদিন দুই-তিনটি বাদাম বা এক টেবিল চামচ কিসমিস যথেষ্ট।
- অপরিষ্কার বা আধা পচা ফল: অপরিষ্কার বা আধা পচা ফল ব্যাকটেরিয়া ও কীটনাশক যুক্ত হতে পারে, যা মা ও গর্ভের শিশুর জন্য বিপজ্জনক।
গর্ভাবস্থায় কোন কোন সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
- কাঁচা বা আধা সিদ্ধ সবজি: কাঁচা বাধা সিদ্ধ সবজিতে ব্যাকটেরিয়া ও টেক্সোপ্লাজমা, লিস্টেরিয়া থাকতে পারে। এগুলো সংক্রমণ শরীরে ঘটিয়ে গর্ভপাত, শিশুর শারীরিক বিকাশে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
- কাঁচা বাঁধাকপি ও কাঁচা ফুলকপি: গর্ভাবস্থায় কাঁচা বাঁধাকপি পোকা যা ফুলকপি শরীরে ব্যাকটেরিয়া বহন করে এবং গ্যাস ও পেট ফাঁপা সৃষ্টি করে।
- কাঁচা বেগুন: বেগুনে থাকে সোলানিন নামক রাসায়নিক, যা জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা বেগুন খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে।
- করোলা: করলাই কিছু যৌগিক থাকে যার রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত পরিমাণে করলা খেলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও জরায়ুর সংকোচন হতে পারে।
- কাঁচা লাউ, কুমড়ো বা কচু পাতা: কাঁচা বা আধা সিদ্ধ লাউ বা কচু পাতা অ্যালকালয়েড নামক বিষাক্ত উপাদান থাকে। এগুলো খেলে গর্ভবতী মায়ের বমি, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথা সৃষ্টি করে।
- অতিরিক্ত পেঁয়াজ ও কাঁচা রসুন: গর্ভাবস্থায় রসুন ও পেঁয়াজ পরিমাণ মতো উপকারিতা, অতিরিক্ত বা কাঁচা খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।
- অপরিষ্কার ও রাসায়নিক যুক্ত সবজি: বাজারের সবজিতে প্রায়ই কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করা সবজি বিক্রয় করা হয়। এগুলো গর্ভবতী নারী শরীরের জমে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বাজারের কেনা সবজিগুলো কিনে ভালোভাবে নুন পানি বা ভিনেগার পানিতে ভিজে ধুয়ে নিন।
গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার অপকারিতা
- অতিরিক্ত টকভাব অ্যাসিডিটি সৃষ্টি: আমলকির স্বাদ টক এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা অতিরিক্ত খেলে পেটে জ্বালাপোড়া, পাকস্থলীতে গ্যাস বাড়ি দিতে পারে। যাদের আগে থেকে গ্যাস বা এসিডিটির সমস্যা আছে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে আমলকি খাওয়া উচিত।
- খালি পেটে খেলে বমি বা অস্বস্তি ভাব: গর্ভাবস্থায় প্রায় অনেকেরই সকালবেলা বমি বমি ভাব থাকে। আমলকির টক ভাবের কারণে সকালে খালি পেটে খেলে বমি হেরে যেতে পারে বা পেটের ভিতর অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।
- ঠান্ডা, সর্দি বা কাশি বাড়তে পারে: আমলকি ঠান্ডা প্রকৃতির। কাঁচা আমলকি খেলে ঠান্ডার প্রবণতা বাডে। যাদের আগে থেকে ঠান্ডা, কাশি বা গলা ব্যথা আছে, তাদের জন্য কাঁচা আমলকি বা অতিরিক্ত আমলকি খাওয়া উচিত নয়।
- রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে: রক্তের গ্লুকোজ কমানোর ক্ষমতা রাখে। তাই কোন গর্ভবতী নারীর লো ব্লাড সুগার অথবা ডায়াবেটিসের ঔষধ খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত আমলকি ঝুঁকিপূর্ণ।
- পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে: আমলকিতে আছে ট্যানিন ও ফাইবার যা অতিরিক্ত পরিমাণে আমলকি খেলে হজমে সমস্যা ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- শরীরে এলার্জি প্রতিক্রিয়া: অনেকেরই এলার্জিজনিত সমস্যা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আমলকি খাওয়ার পর এলার্জির, চুলকানি বা ত্বকে র্যাশ হতে পারে। সেক্ষেত্রে এরকম অবস্থা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আমলকি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর
লেখক এর শেষ কথা: আমলকি খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় আমলকি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা
আশা করছি আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে গর্ভবতী মহিলা উপকৃত হবেন। গর্ভাবস্থায় এমন একটি সময় ওই সময় একজন নারীর পুষ্টিকর খাবার ও যত্নে প্রয়োজন অনেক। গর্ভবতী মহিলাদের কথা চিন্তা করি আমরা গর্ভাবস্থায় আমলকী খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে নিজেদের আর্টিকেলে সঠিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।
আপনারা যদি আমাদের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন অবশ্যই সব বয়সী মানুষের জন্য আমলকী খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, কি পরিমাণে খাবেন, কোন সময় খাবেন সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। তাই অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়বেন। এরকম আরো নিত্য নতুন স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য নির্ভর আর্টিকেল পেতে ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। আমাদের সঙ্গে থাকুন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


এট্রাকশন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url