ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম করার উপায়

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে আপনি কি জানতে আগ্রহী? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা ঘরে বসে ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনে কিভাবে ইনকাম করবেন সেই বিষয়ে ধারণা দেবো। 

ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম-বিস্তারিত

এই আর্টিকেলে আমরা ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম, কোন পণ্য নিয়ে ব্যবসা করা যায়,পণ্যর প্রচার ও ক্রেতা পাওয়ার উপায় এবং ফেসবুক পেজ থেকে কীভাবে আয় করা যায় এসব বিষয় সম্পর্কে জানবো।

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম বর্তমানে একটি সহজ ও জনপ্রিয় কাজ হয়ে উঠেছে। অনেকে আছেন যারা পড়াশোনার পাশাপাশি কিংবা পড়াশোনা শেষ করার পর কোনো চাকরি না পেয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করা একটা লাভজনক কাজ হবে। কারণ বর্তমানে মানুষ এখন ফেসবুকে থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে থাকে। তাই আপনারা যদি এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ফেসবুকে পেজ খুলে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে সেখান থেকে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।
ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম-বিস্তারিত

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করার আগে আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে । যেমনঃ অনলাইনে কোন ধরনের পণ্য বেশি বিক্রি হয় , আপনার আশেপাশে লোকেরা কোন ধরনের পণ্য বেশি কিনে থাকে , কোন ধরনের পণ্য কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন , ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কিভাবে আপনারা কাস্টমার নিয়ে আসবেন । যদি আপনাদের এই সম্পর্কে সুন্দরভাবে ধারণা থাকে তাহলে আপনার ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সেখান থেকে অনলাইন বিজনেস এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন ।

ব্যবসা শুরু করার আগে বাজেটটা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া ভালো। যেমন, শুরুতে ১০–১২ হাজার টাকা দিয়ে কিছু পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। পণ্যের সুন্দর ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং প্রয়োজনীয় ভিডিও এডিটিং করার জন্য কিছু টাকা রাখতে পারেন। বাকি যে অর্থ থাকবে সে অর্থ দিয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন।

পাশাপাশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু রাখুন, যাতে ক্রেতারা নিজেদের সুবিধামতো টাকা পরিশোধ করতে পারেন। ব্যবসা ছোট অবস্থায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝে এগোন, আর ব্যবসার পরিধি বাড়লে ট্রেড লাইসেন্স ও প্রযোজ্য কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করুন।

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনে কাপড় ব্যবসা করার নিয়ম

বর্তমানে ঘরে বসে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করার জন্য ফেসবুক বেশ ভালো একটি মাধ্যম। এর জন্য আলাদা করে দোকান ভাড়া নেওয়া বা অনেক টাকা বিনিয়োগ করা সবসময় প্রয়োজন হয় না। আপনি চাইলে অল্প কিছু পণ্য নিয়ে একটি ফেসবুক পেজ খুলে ধীরে ধীরে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে পেজ খোলার আগে কোন ধরনের কাপড় বিক্রি করবেন এবং আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা কারা হবেন, সেটা ঠিক করে নেওয়া জরুরি।

শুরুতেই সব ধরনের কাপড় নিয়ে কাজ না করে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বেছে নিলে সুবিধা হয়। যেমন মেয়েদের থ্রি-পিস, শাড়ি, কুর্তি, গাউন, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট কিংবা বাচ্চাদের পোশাক দিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনি যেই ধরনের পণ্য সম্পর্কে ভালো জানেন এবং যেটার বাজার চাহিদা বেশি আছে, সেটি বেছে নেওয়াই ভালো। এতে পণ্য কেনা, ছবি তোলা, পোস্ট করা এবং ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে।

আরো পড়ুনঃ মোবাইলে ডিজিটাল পণ্য বিক্রি করে ইনকাম 

পণ্য কোথা থেকে কিনবেন, সেটাও আগে ঠিক করে নিতে হবে। পাইকারি বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনে অনলাইনে বিক্রি করা যায় এমন পণ্য কিনতে হবে। ঢাকার নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি ও কম দামে পাওয়া যায় এমন মার্কেট থেকে কাপড় সংগ্রহ করতে পারেন। শুধুমাত্র কম দাম দেখে কাপড় কিনলে সেটা আবার আপনার ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাপড় কেনার সময় অবশ্যই কাপড়ের ডিজাইন খেতে চাহিদা রং মান ও সেলাই দেখে নিবেন।

একেবারে শুরুতেই অনেক টাকার পণ্য কিনে ফেলাটা ঠিক হবে না। ধরুন, আপনার হাতে ২০ হাজার টাকা আছে, তাহলে পুরো টাকা একবারে পণ্যের পেছনে না দিয়ে কিছু টাকা দিয়ে অল্প পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কোন ডিজাইন বেশি পছন্দ হচ্ছে এবং কোন পণ্য বেশি অর্ডার আসছে, সেটা দেখে পরে সেই পণ্যের স্টক বাড়াতে পারেন। এতে অবিক্রীত পণ্যের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে।

এরপর একটি সুন্দর ও মনে রাখার মতো ফেসবুক পেজের নাম নির্বাচন করতে হবে। নামটি খুব জটিল না হওয়াই ভালো। পেজের নাম দেখলেই যেন বোঝা যায় এখানে পোশাক বা ফ্যাশন সম্পর্কিত পণ্য পাওয়া যায়। একটি সুন্দর প্রোফাইল ছবি ও কভার ছবি ব্যবহার করুন এবং পেজের পরিচিতি অংশে আপনি কী ধরনের পণ্য বিক্রি করেন, কোথায় ডেলিভারি দেন এবং কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে এসব তথ্য লিখে রাখুন।

পেজ তৈরি করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পণ্যের ছবি। অনলাইনে ক্রেতা আপনার কাপড় হাতে নিয়ে দেখতে পারবেন না, তাই ছবিই তার কাছে পণ্যের প্রথম পরিচয়। ভালো আলোতে পরিষ্কার ছবি তুলুন। কাপড়ের পুরো অংশের পাশাপাশি ডিজাইন, কাপড়ের কাজ, হাতের কাজ বা প্রিন্টের কাজ নিকট থেকে কয়েকটি ছবিও নিতে পারেন। সম্ভব হলে ছোট ভিডিও তৈরি করে কাপড়টি সামনে ও পেছন থেকে দেখালে ক্রেতার ধারণা আরও পরিষ্কার হবে।

ছবি তোলার জন্য সবসময় দামি ক্যামেরা প্রয়োজন হয় না। ভালো ক্যামেরার মোবাইল ফোন দিয়েও সুন্দর ছবি তোলা সম্ভব। ছবির পেছনে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না রেখে পরিষ্কার জায়গায় ছবি তুলুন। খুব বেশি এডিট করে কাপড়ের আসল রং পরিবর্তন করবেন না। কারণ ছবিতে এক রকম এবং হাতে পাওয়ার পর অন্য রকম দেখালে ক্রেতার অসন্তুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ফেসবুক পেইজে পোস্ট দেওয়ার সময় শুধু ছবি দিবেন বিষয়টি এমন নয়, উক্ত পণ্য সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। যেমন ওই পণ্যটির রং উপাদান দাম সাইজ এবং কোন কোন কালার পাওয়া যায়, পেইজে ভালোভাবে উল্লেখ করুন ডেলিভারি চার্জ কে দিবে এবং কিভাবে অর্ডার করবে। পোশাকের মাপ থাকলে সেটাও উল্লেখ করুন। এতে ক্রেতা সহজেই বুঝতে পারবেন পণ্যটি তার প্রয়োজনের সঙ্গে মিলছে কি না।

পেজে পোস্ট করার সময় শুধু বিক্রির কথা না বলে কিছু তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় পোস্টও দিতে পারেন। যেমন নতুন কালেকশন, কোন পোশাক কোন অনুষ্ঠানে পরা যায়, কাপড়ের যত্ন কীভাবে নিতে হয় বা নতুন ডিজাইনের ছোট ভিডিও দিতে পারেন। এতে পেজটি শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা না হয়ে ক্রেতাদের কাছে একটি সক্রিয় ফ্যাশন পেজ হিসেবেও পরিচিত হতে পারে।

ফেসবুকের মাধ্যমে ক্রেতা পাওয়ার জন্য নিয়মিত পোস্ট করার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও ব্যবহার করা যায়। তবে শুরুতেই অনেক টাকা বিজ্ঞাপনে খরচ করার দরকার নেই। ছোট বাজেট দিয়ে একটি ভালো পণ্যের পোস্ট প্রচার করে দেখতে পারেন। কোন বয়সের মানুষ, কোন এলাকার মানুষ বা কোন ধরনের ক্রেতা আপনার পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে, সেটার ফলাফল দেখে পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনের বাজেট বাড়াতে পারেন।

ক্রেতা আপনার পোস্টে কমেন্ট করলে বা ইনবক্সে মেসেজ দিলে দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় একজন ক্রেতা শুধু দাম জানতে মেসেজ করেন, কিন্তু ভালোভাবে কথা বললে তিনিই পরে অর্ডার করতে পারেন। তাই “দাম ৮০০ টাকা” লিখে শেষ না করে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ভদ্রভাবে উত্তর দেওয়া ভালো। ক্রেতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার অনলাইন ব্যবসায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

অর্ডার নেওয়ার সময় ভুল যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর, সম্পূর্ণ ঠিকানা, পণ্যের নাম, রং, সাইজ এবং কতটি পণ্য লাগবে সবকিছু লিখে রাখুন। অর্ডার কনফার্ম করার আগে তথ্যগুলো আবার ক্রেতাকে জানিয়ে দিলে ভুল ঠিকানা বা ভুল পণ্য পাঠানোর ঝুঁকি কমে যায়।

পেমেন্টের ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের জন্য একাধিক সুবিধা রাখা যেতে পারে। বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে পারেন। আবার অনেক ক্রেতা পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই আপনার ব্যবসা ও কুরিয়ার ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা রাখবেন কি না, সেটিও আগে ঠিক করে নিন।

কাপড়ের ব্যবসায় ডেলিভারি ব্যবস্থা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন কুরিয়ার দিয়ে পণ্য পাঠাবেন, ঢাকার মধ্যে কত টাকা এবং ঢাকার বাইরে কত টাকা ডেলিভারি চার্জ হবে, পণ্য পৌঁছাতে সাধারণত কত সময় লাগতে পারে এসব তথ্য ক্রেতাকে আগে জানিয়ে দিন। এতে অর্ডারের পরে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জের নিয়মও শুরু থেকেই পরিষ্কার রাখা ভালো। ধরুন সাইজে সমস্যা হলে পরিবর্তন করা যাবে কি না, ভুল পণ্য গেলে কী হবে, পণ্য ফেরত দিতে হলে ডেলিভারি খরচ কে বহন করবে এসব বিষয় আগে ঠিক করে পেজে জানিয়ে দিতে পারেন। নিয়ম পরিষ্কার থাকলে ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুই পক্ষেরই সুবিধা হয়।

অনলাইনে কাপড় বিক্রি করার সময় পণ্যের মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা উচিত নয়। ছবিতে ভালো দেখানোর জন্য এমন কোনো কথা বলবেন না যা বাস্তবে পণ্যের সঙ্গে মেলে না। কাপড়ের রং, মান, সাইজ বা ডিজাইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিলে ক্রেতার বিশ্বাস তৈরি হবে। একজন সন্তুষ্ট ক্রেতা পরবর্তীতে আবার কিনতে পারেন এবং অন্যদেরও আপনার পেজের কথা বলতে পারেন।

ব্যবসার হিসাব আলাদা করে রাখুন। কোন পণ্য কত টাকায় কিনেছেন, কত দামে বিক্রি করেছেন, ডেলিভারি ও প্যাকেজিংয়ে কত খরচ হয়েছে এবং বিজ্ঞাপনে কত টাকা গেছে সবকিছু লিখে রাখুন। কারণ ১০০০ টাকার পণ্য ১৩০০ টাকায় বিক্রি করলেই ৩০০ টাকা লাভ হয়েছে এমন নয়। অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর আসল লাভ কত থাকছে, সেটাই হিসাব করতে হবে।

প্যাকেজিংয়ের দিকেও একটু নজর দিন। কাপড় পরিষ্কারভাবে ভাঁজ করে ভালোভাবে প্যাকেট করুন, যাতে পরিবহনের সময় পণ্য নষ্ট বা ভিজে না যায়। প্যাকেটের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য ঠিকভাবে লিখুন। পণ্য সঠিক ও সুন্দরভাবে প্যাকেট করে আপনার ক্রেতার নিকট পৌঁছাতে পারলে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে তাদের একটা ভালো ধারণা তৈরি হবে।

শুরুতে অর্ডার কম আসতেই পারে, এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার দরকার নেই। প্রথম কয়েক সপ্তাহ বা মাসে আপনার মূল লক্ষ্য হতে পারে ভালো পণ্য, ভালো ছবি, নিয়মিত পোস্ট এবং ক্রেতার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা। আপনার কোন ফেসবুক পোস্টে মানুষ বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে, কোন ধরনের পণ্য বেশি অর্ডার আসতেছে এবং কোন দামের এবং কোন সাইজের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে এইসব বিষয় দেখে আপনি আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা কিছুটা পরিবর্তন করতে পারেন।

সবশেষে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, ফেসবুকে কাপড়ের ব্যবসা মানে শুধু একটি পেজ খুলে ছবি পোস্ট করা নয়। পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে ছবি, পোস্ট, বিজ্ঞাপন, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ, পেমেন্ট, ডেলিভারি, রিটার্ন এবং হিসাব সবকিছু মিলিয়েই একটি অনলাইন ব্যবসা তৈরি হয়। তাই শুরুটা ছোট হলেও যদি পরিকল্পনা করে কাজ করেন এবং ক্রেতার বিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ধীরে ধীরে পেজের পরিচিতি বাড়ানো এবং ব্যবসার পরিধি বড় করা সম্ভব।

ফেসবুক পেজ দিয়ে অনলাইনে কিভাবে ব্যবসা করবেন

ফেসবুক এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জায়গা নয়, চাইলে এটাকেই নিজের ব্যবসার দোকান বানিয়ে নেওয়া যায়। তবে শুরুতেই বড় পরিমাণ পণ্য কিনে ফেলার চেয়ে আগে একটু বুঝে নেওয়া ভালো কোন জিনিসের ক্রেতা বেশি এবং মানুষ অনলাইনে কী কিনতে আগ্রহী। আপনি যে পণ্যটি নিয়ে কাজ করতে চান, সেটির বাজারদর, পাইকারি দাম এবং সম্ভাব্য লাভ সম্পর্কে আগে ধারণা নিন। 

এরপর একটি সহজ নাম দিয়ে ফেসবুক পেজ খুলে সেটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন। পেজে ব্যবসার ধরন, যোগাযোগের নম্বর, পণ্যের তথ্য এবং অর্ডার করার পদ্ধতি পরিষ্কারভাবে দেওয়া থাকলে একজন নতুন ক্রেতাও সহজে বুঝতে পারবেন এখানে কী পাওয়া যায়।

পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কীভাবে সেটি মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। দোকানে গেলে ক্রেতা কাপড় হাতে নিয়ে দেখেন, পণ্যের মান বোঝেন; কিন্তু ফেসবুকে সেই সুযোগ নেই। তাই পরিষ্কার ছবি, বাস্তব ভিডিও এবং বিস্তারিত তথ্য দিয়ে পণ্য দেখানো দরকার। 

একটি পোশাক হলে সামনে-পেছনের ছবি, কাপড়ের কাজের কাছ থেকে ছবি, সাইজ এবং আসল রং উল্লেখ করতে পারেন। পোস্টে শুধু “অর্ডার করতে ইনবক্স করুন” লিখে না রেখে দাম, সাইজ, রং, কাপড়ের ধরন ও ডেলিভারি সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য দিলে ক্রেতার আস্থা বাড়ে। ছবি সুন্দর করার জন্য হালকা এডিট করা যায়, কিন্তু পণ্যের আসল চেহারা পরিবর্তন করে দেখানো উচিত নয়।

এরপর মূল কাজ হলো মানুষকে আপনার পেজে আনা এবং তাদের ক্রেতায় পরিণত করা। নিয়মিত নতুন পণ্য পোস্ট করার পাশাপাশি ছোট ভিডিও, পণ্যের ব্যবহার, নতুন কালেকশন কিংবা বিশেষ অফার নিয়ে পোস্ট করা যেতে পারে। কোনো পোস্ট ভালো সাড়া পেলে সেটি ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা যায়। 

তবে বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করার আগে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করে দেখা ভালো কোন পণ্য বা পোস্টে বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ প্রশ্ন করলে সময় নিয়ে উত্তর দিন, অর্ডার নেওয়ার সময় নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন। পেমেন্টের জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক ট্রান্সফারের ব্যবস্থা রাখতে পারেন এবং আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ক্যাশ অন ডেলিভারিও চালু করা যেতে পারে।

অনলাইন ব্যবসায় লাভ করার পাশাপাশি ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি পণ্য বিক্রি করে একবার লাভ করার চেয়ে এমনভাবে ব্যবসা করা ভালো, যাতে সেই ক্রেতা পরবর্তীতেও আপনার কাছ থেকে কিনতে চান। তাই পণ্যের মান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া, ছবির সঙ্গে বাস্তব পণ্যের বড় পার্থক্য রাখা কিংবা অর্ডার নিয়ে দেরি করা এড়িয়ে চলুন।

ডেলিভারি চার্জ, রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জের নিয়ম আগে থেকেই জানিয়ে দিন এবং প্রতিটি বিক্রির হিসাব আলাদা করে রাখুন। শুরুতে অর্ডার কম হলেও নিয়মিতভাবে কাজ করতে থাকুন, কারণ কোন কোন পণ্য বিক্রি হচ্ছে আর কোন কোন পণ্য বিক্রি হচ্ছে না এই সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসার মূল কৌশল তৈরি হবে।

ধাপে ধাপে ফেসবুক পেজ খোলার নিয়ম

বর্তমানে নিজের ব্যবসা, অনলাইন শপ কিংবা ব্যক্তিগত কাজকে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে ফেসবুক পেজ বেশ কার্যকর একটি মাধ্যম। একটি ফেসবুক পেজ খুলতে প্রথমে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করে মেনু থেকে Page অপশনে যেতে হবে। এরপর Create New Page-এ ক্লিক করে পেজের একটি সুন্দর নাম দিতে হবে এবং পেজটি কী ধরনের কাজের জন্য, সেটি অনুযায়ী ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে।

ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম

ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম

ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম

এরপর পেজ সম্পর্কে অল্প করে পরিচয় লিখতে হবে, যাতে একজন নতুন মানুষ পেজে ঢুকেই বুঝতে পারেন এখানে কী ধরনের পণ্য, সেবা বা তথ্য পাওয়া যাবে। সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে পেজ প্রস্তুত হয়ে গেলে কভার ছবি ও প্রোফাইল ছবি সংযুক্ত করতে হবে। ব্যবসায়িক পেজ হলে আপনার প্রতিষ্ঠানের লোগো বা পণ্যর সুন্দর ছবি ব্যবহার করলে পেজটি দেখতে খুবই সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য লাগবে।

পেজ তৈরি হয়ে গেলেই কাজ শেষ নয়। এরপর পেজের User name, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ওয়েবসাইট বা যোগাযোগের অন্যান্য তথ্য থাকলে সেগুলো যুক্ত করে নিতে হবে। তারপর নিয়মিত পেজে ভালো মানের ছবি, ভিডিও ও তথ্যবহুল পোস্ট দিতে হবে। যারা পোস্টে মন্তব্য করবে বা মেসেজ পাঠাবে, তাদের সঙ্গে ভালোভাবে যোগাযোগ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

মূলত একটি ফেসবুক পেজকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিয়মিত সময় দিলে ধীরে ধীরে সেখানে দর্শক ও ক্রেতা তৈরি করা সম্ভব। তাই শুধু পেজ খুলে রেখে না দিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা, মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং নিজের পণ্য বা সেবার তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরাই ভালো ফল পাওয়ার অন্যতম উপায়।

পেজ সেটআপ দিয়ে  প্রফেশনাল লুক দেওয়া

ফেসবুক পেজ খোলার পর সেটিকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন মানুষ প্রথমবার পেজে ঢুকেই যদি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন পেজটি কী নিয়ে কাজ করে, তাহলে তার কাছে পেজটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। তাই প্রথমে পেজের নামের সঙ্গে মিল রেখে একটি পরিষ্কার প্রোফাইল ছবি ও সুন্দর কভার ছবি দিতে হবে। ব্যবসার পেজ হলে লোগো ব্যবহার করা যেতে পারে, আর কভারে পেজের পণ্য বা সেবার সংক্ষিপ্ত তথ্য রাখা ভালো।

এরপর পেজের About বা তথ্যের অংশটি ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এই পেজটিতে আসলে কোন ধরনের কাজ করে এবং কোন ধরনের সেবা দেওয়া হয় এবং কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে হজ ভাষায় লিখে দিতে পারেন। ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা বা ওয়েবসাইট থাকলে সেগুলোও যুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি একটি সহজ ও মনে রাখার মতো User name সেট করলে মানুষ সহজেই পেজটি খুঁজে পাবে।

সবকিছু সেটআপ করার পর কয়েকটি ভালো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও আগে থেকেই প্রকাশ করে রাখা ভালো। এতে নতুন কেউ পেজে ঢুকলে খালি পেজ দেখতে হবে না। পোস্টের ডিজাইন, লেখার ধরন এবং ছবির মানে যতটা সম্ভব একই ধরনের রাখলে পুরো পেজটি আরও গোছানো ও প্রফেশনাল দেখাবে। মূলত সুন্দরভাবে সাজানো একটি পেজ মানুষের আস্থা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার প্রচার করতেও সুবিধা হয়।

পণ্যের আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও তৈরি করার কৌশল

অনলাইনে কোনো পণ্য বিক্রি করতে হলে পণ্যের ছবি ও ভিডিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রেতা দোকানে এসে পণ্যটি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ পান না, তাই ছবি বা ভিডিও দেখেই অনেকটা ধারণা নিতে হয়। এজন্য পণ্যের ছবি তোলার সময় আলো যেন ভালো থাকে এবং ছবিটি পরিষ্কার ও ঝকঝকে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খুব বেশি সাজসজ্জা না করে পণ্যটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা ভালো, যাতে আসল পণ্যটি সহজেই বোঝা যায়।

ছবি তোলার সময় পণ্যটির সামনে, পাশ থেকে এবং কাছ থেকে কয়েকটি ছবি তুলতে পারেন। বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটারও আলাদা ছবি দেওয়া ভালো। যেমন পোশাক হলে কাপড়ের মান, ডিজাইন ও কাজের কাছ থেকে ছবি দেখানো যেতে পারে। ভিডিওর ক্ষেত্রে শুধু পণ্যটি দেখানোর বদলে হাতে নিয়ে ব্যবহার করে দেখানো, প্যাকেট খোলা বা পণ্যটির বিভিন্ন দিক দেখালে ক্রেতার আগ্রহ বাড়তে পারে।

এছাড়াও ছবি ও ভিডিওতে অতিরিক্ত লেখা, ফিল্টার বা অপ্রয়োজনীয় ডিজাইন ব্যবহার না করাই ভালো। মোবাইল দিয়েই দিনের আলোতে পরিষ্কার ছবি তোলা সম্ভব। ভিডিও ছোট, স্বাভাবিক এবং তথ্যপূর্ণ রাখলে মানুষ সহজে পুরোটা দেখে নিতে পারে। মূলত একটি পণ্যের ছবি বা ভিডিও যতটা বাস্তব ও পরিষ্কারভাবে তার গুণগত মান তুলে ধরতে পারবে, ক্রেতার কাছে পণ্যটি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করাও তত সহজ হবে।

ফেসবুকে ব্যবসার জন্য কোন ধরনের পণ্য বেশি বিক্রি হয়

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম  এর মধ্যে অন্যতম উপায় হলো ফেসবুকে সব ধরনের পণ্যেরই ক্রেতা পাওয়া যায়, তবে কিছু পণ্য অনলাইনে তুলনামূলক সহজে বিক্রি করা যায়। বিশেষ করে পোশাক, থ্রি-পিস, শাড়ি, হিজাব, কসমেটিকস, জুয়েলারি, ব্যাগ, জুতা ও বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন পণ্যের চাহিদা রয়েছে। এসব পণ্যের ছবি ও ভিডিও সহজে ফেসবুকে দেখানো যায় বলে ক্রেতার আগ্রহ তৈরি করাও তুলনামূলক সহজ।

এছাড়াও ঘরের ব্যবহার্য পণ্য, রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রী, গিফট আইটেম, মোবাইলের ছোটখাটো অ্যাক্সেসরিজ এবং শিশুদের কিছু পণ্য নিয়েও অনলাইনে ব্যবসা করা যায়। তবে শুধু পণ্য জনপ্রিয় হলেই ভালো বিক্রি হবে এমন নয়। পণ্যের মান, দাম, ছবি, ডেলিভারি ব্যবস্থা এবং ক্রেতার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ এসব বিষয়ও বিক্রির ওপর অনেক প্রভাব ফেলে।

পণ্যর ক্যাটাগরি উদাহরণ চাহিদার মাত্রা
ফ্যাশন ও পোশাক শাড়ি থ্রি, পিস শার্ট, টিশার্ট, জুতা ব্যাগ ও ফ্যাশন এক্সেসরিজ অনেক বেশি
কসমেটিক ও স্কিন কেয়ার ক্রিম, ফেসওয়াশ ও মেকআপ বেশি
ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ, হেডফোন, স্মার্ট ওয়াচ ও গেমিং এক্সেসরিজ খুব বেশি
বেবিদের সামগ্রী শিশুদের জামাকাপড়, খেলনা, ডায়াপার বেশি
ফার্নিচার সোফা, পড়ার টেবিল, শোপিস ও লাইটিং মাঝারি
স্পোর্টস বিভিন্ন ধরনের খেলার সামগ্রী বেশি
ফিটনেস ডাম্বেল ট্রেডমিল ইয়োগা ম্যাট ও বাইক মাঝারি
বিভিন্ন ধরনের বই গল্পের বই, ইসলামিক বই, ইতিহাস বই মাঝারি

আপনি যদি নতুন করে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে প্রথমেই বেশি পণ্য নিয়ে শুরু না করে একটি নির্দিষ্ট ধরনের পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। যেমন শুধু পোশাক, শুধু কসমেটিকস বা শুধু ঘর সাজানোর পণ্য নিয়ে কাজ করতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট ধরনের ক্রেতাকে লক্ষ্য করে পোস্ট করা সহজ হয় এবং ধীরে ধীরে পেজের একটি পরিচিতিও তৈরি হয়।

কাস্টমারদের কিভাবে হ্যান্ডেল করবেন

ফেসবুকে ব্যবসা করার সময় কাস্টমারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছেন, সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা পণ্য সম্পর্কে জানতে মেসেজ করলে তাকে দেরি না করে সুন্দরভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। দাম, পণ্যের মান, সাইজ, রং, ডেলিভারি চার্জ বা পৌঁছাতে কত সময় লাগবে এসব তথ্য পরিষ্কারভাবে জানালে কাস্টমারের মনে আর কোনো দ্বিধা থাকে না। শুধু পণ্য বিক্রি করার উদ্দেশ্যে কথা না বলে কাস্টমারের প্রয়োজনটা আগে বোঝার চেষ্টা করাও ভালো।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশে মোবাইল দিয়ে আই ব্যবহার করে ইনকাম করার উপায়

যদি কোন ক্রেতা একই প্রশ্ন অনেকবার করেন এবং আপনার পণ্য সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চান, তাহলে রাগান্বিত না হয়ে অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাকে উত্তর দিবেন। আবার কোন ক্রেতা যদি কোনো রকম অভিযোগ করে তাহলে তার সঙ্গে রাগারাগি না করে সমস্যাটা শুনতে হবে, সমস্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। আপনার পণ্যর যদি সত্যিই সমস্যা হয় তাহলে সেটা সমাধান চেষ্টা করতে হবে। এতে করে আপনার কাস্টমারের আপনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, পরবর্তীতে আপনার পেজ থেকে আরও অনেক পণ্য কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে।

অর্ডার নেওয়ার সময় অবশ্যই আপনার ক্রেতার নাম, ক্রেতার প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার, ক্রেতার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, প্রোডাক্ট এর ধরন প্রডাক্টের সাইজ এবং আরো কি কি প্রয়োজন সে তথ্যগুলো সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে। ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণ করার পূর্বেই পণ্যর দাম কত টাকা ও পণ্যটি তার নিকট কিভাবে পৌঁছাবেন যদি কুরিয়ারে পৌঁছান তাহলে পুরের ব্যবস্থা খরচ কে বহন করবে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মূলত ভালো ব্যবহার, দ্রুত উত্তর, পরিষ্কার তথ্য এবং সমস্যায় সহযোগিতা এই কয়েকটি বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললে কাস্টমারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ভালো সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব।

অর্ডার পেলে কি করবেন? ডেলিভারি দেওয়া-নেওয়া

ফেসবুক পেজে কোনো কাস্টমার অর্ডার করলে প্রথমেই অর্ডারটি ভালোভাবে নিশ্চিত করে নিতে হবে। কাস্টমারের নাম, মোবাইল নম্বর, সম্পূর্ণ ঠিকানা, পণ্যের নাম, রং, সাইজ এবং কতটি পণ্য লাগবে এসব তথ্য ঠিকভাবে লিখে রাখা ভালো। অর্ডারটি কনফার্ম করার আগে পণ্যের মোট দাম, ডেলিভারি চার্জ এবং আনুমানিক কত দিনে পণ্য পৌঁছাবে, সেটিও কাস্টমারকে জানিয়ে দিতে হবে।

এরপর আপনার পণ্যটিকে খুবই সুন্দরভাবে পরীক্ষা করে প্যাকেটজাত করতে হবে, যেন পরিবহনের সময় কোন রকম কোন পণ্যর সমস্যা না হয়। উক্ত পণ্যর সাইজ অনুযায়ী প্যাকেট ও, পলিথিন ব্যাগ বা শক্ত কোন কাগজের কার্টুন ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর আপনার সুবিধা অনুযায়ী কোনো কুরিয়ার বা ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্যটি পাঠাতে হবে। পণ্য পাঠানোর পর কাস্টমারকে জানিয়ে দিতে পারেন যে তার অর্ডারটি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ট্র্যাকিং তথ্যও দিতে পারেন।

ডেলিভারির ক্ষেত্রে আগে থেকেই কাস্টমারের সঙ্গে ঠিকভাবে যোগাযোগ রাখা খুব জরুরি। বিশেষ করে ক্যাশ অন ডেলিভারি হলে কাস্টমার কখন পণ্য গ্রহণ করতে পারবেন, সেটি নিশ্চিত করা ভালো। কোনো কারণে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হলে কাস্টমারকে বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে। মূলত অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে পণ্য প্যাক করা, সঠিক ঠিকানায় পাঠানো এবং কাস্টমারের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ যত্নের সঙ্গে পরিচালনা করলে ব্যবসার প্রতি ক্রেতার বিশ্বাস বাড়ে।

কাস্টমারদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার উপায়

ফেসবুকে ব্যবসা করতে গেলে শুধু পণ্য বিক্রি করলেই হবে না, কাস্টমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্কও তৈরি করতে হবে। একজন কাস্টমার মেসেজ দিলে যতটা সম্ভব দ্রুত এবং ভদ্রভাবে উত্তর দেওয়া উচিত। পণ্যের দাম, মান, সাইজ, ডেলিভারি চার্জ বা অন্য কোনো বিষয় জানতে চাইলে পরিষ্কারভাবে তথ্য দিতে হবে। এতে কাস্টমারের মনে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হবে।

কেউ একবার পণ্য কিনে ফেলেছেন মানেই তার সঙ্গে যোগাযোগ শেষ নয়। পণ্য হাতে পাওয়ার পর কাস্টমার সবকিছু ঠিকঠাক পেয়েছেন কি না, সেটা জানতে চাইতে পারেন। কোনো সমস্যা হলে সেটি গুরুত্ব দিয়ে শোনার চেষ্টা করতে হবে। ভুল হলে সেটি স্বীকার করে সমাধান করার চেষ্টা করলে কাস্টমারের আস্থা আরও বাড়ে।

ফেসবুক-পেজ-খুলে-অনলাইন-ব্যবসা-করে-ইনকাম-বিস্তারিত

এছাড়া নিয়মিত ভালো পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো কাস্টমারদের নতুন পণ্য বা বিশেষ অফারের খবর জানানো যেতে পারে। তবে অযথা বারবার মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করা উচিত নয়। মূলত ভালো ব্যবহার, কথা রাখার চেষ্টা, দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সমস্যায় পাশে থাকা এই বিষয়গুলো ঠিকভাবে মেনে চললে কাস্টমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব।

উপসংহারঃ ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম

ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করা এখন অনেক সহজ। ভালো একটি পণ্য বেছে নিয়ে সুন্দর ছবি ও ভিডিও দিয়ে পেজে পোস্ট করতে হবে এবং কাস্টমারের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতে হবে। শুরুতে অল্প কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করেও ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা সম্ভব।

তবে অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে হলে ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করতে হবে। পণ্যের মান ভালো রাখা, সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া এবং কাস্টমারকে ভালো সেবা দেওয়ার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে কাস্টমারের বিশ্বাস তৈরি হলে ফেসবুক পেজ থেকেই ভালোভাবে অনলাইন ব্যবসা করে ইনকাম করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এট্রাকশন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url