আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগের কারণ লক্ষণ ও সঠিক সমাধান

প্রতিবছর বাংলাদেশের লাখ লাখ একর জমির আলু নষ্ট হয়ে যায় লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগের কারণে। আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগ কেন হয় এটি দমন করার জন্য সঠিক উপায় কি এ বিষয়ে আপনারা অনেকেই জানতে চান। আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগের কারণ, লক্ষণ ও সঠিক সমাধান সম্পর্কে।
আলুর-লেট-ব্লাইট-বা-মোড়ক-রোগের-কারণ-লক্ষণ-ও-সঠিক-সমাধান
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর লেট ব্লাইট বা মড়ক রোগ দেখা যায়। বিশেষ করে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট সূচীপত্র: আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগের কারণ লক্ষণ ও সঠিক সমাধান

আলুর লেট ব্লাইট রোগ কি

আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগ হলো এক ধরনের ছত্রাক জনিত পচন রোগ। এ রোগটি আলুর সবচেয়ে ক্ষতিকর ও মারাত্মক একটি রোগ। Phytopthora Infestans নামক এক ধরনের ছত্রাক দ্বারা এই রোগটি আক্রমিত হয়। আলুতে প্রতিবছরই এলাকা ভেদে কম বেশি এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত অতিরিক্ত কুয়াশা ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এই রোগটি আলুতে বেশি আক্রমিত হয়। এ রোগের আক্রমণের কারণে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফলন কম হয়।

সময় মত রোগ নির্ণয় না করতে পারলে ৫০ থেকে ৮০% পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। এ রোগের আক্রমণের কারণে আলু গাছের পাতায় পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে এটি এক গাছ থেকে অন্য গাছের ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় যদি কৃষক নিয়মিত জমি পরিদর্শন না করে তাহলে এই রোগটি আক্রমিত হয়ে কৃষকের সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসতে পারে। আলুর লেটব্লাইট রোগ আলু গাছের দ্রুত ক্ষতি করার কারণে এটিকে মোড়ক রোগ বলা হয়।
আলুর-লেট-ব্লাইট-রোগের-লক্ষণ

আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণ

অতিরিক্ত কুয়াশা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জনিত কারণে আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগ হতে পারে। প্রতিবছর জানুয়ারি মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এই সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত কুয়াশা হয় এবং ঠান্ডা পড়ে।আবহাওয়ার এরুপ অবস্থা হওয়ার কারণে আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক জীবাণু দ্রুত আলু গাছে আক্রমণ করে। অল্প সময়ের মধ্যে আলু গাছে এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এই রোগ মূলত Phytopthora Infestans নামক ছত্রাকের দ্বারা আক্রমণ হয়।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের লক্ষণ

এ রোগের আক্রমণের কারণে আলু গাছের গোড়ার দিকের পাতা পচনের মত দেখা যায়। প্রথমে পাতায় পানি ভেজে দাগ পরে পরে দাগ গুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে অন্যান্য পাতা এবং কান্ড আক্রমণ করে। পাতা নিচের দিকে সাদা সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায়। চলুন লক্ষণ গুলো নিচে পয়েন্ট আকার দেখা যাক।
  • আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগ সাধারণত আলু গাছের গোড়ার পাতা থেকে আক্রমণ শুরু করে।
  • প্রথমে আলু গাছের গোড়ার পাতায় পানি ভেজা বা ফ্যাকাশে দাগ দেখা যায়।
  • পাতায় এই রোগটি হালকা ছোপ ছোপ বা ছাই রং এর গোলাকার অথবা বিভিন্ন আকৃতির দাগ দেখা যায়।
  • পরবর্তীতে এই দাগটি পচে কালো রং ধারণ করে।
  • সকাল বেলা আলুর জমি পরিদর্শন করলে পাতার নিচে সাদা সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায়, যা দেখতে কিছুটা সাদা পাউডারের মতো।
  • অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত কুয়াশা হলে এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • প্রথমে পাতায় আক্রমণ করলেও পরবর্তীতে এটি কাণ্ডে এবং অন্যান্য পাতায় আক্রমণ করে।
  • রোগ আক্রমণের সময় এ রোগের জীবাণু বাতাস, পানি সেচ অথবা বৃষ্টি হওয়ার কারণে এক গাছ থেকে অন্য গাছের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ২-৪ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ জমিতে আক্রমণ করে আলুর জমিকে সম্পন্ন নষ্ট করে দিতে পারে।
  • আক্রমণের হার অনেক বেশি হলে জমি থেকে পোড়া গন্ধ আসে মনে হয় আলু গাছে আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়া হয়েছে।
  • রোগাক্রান্ত আলুর গায়ে বাদামি অথবা কালচে রঙের দাগ পরে যার কারণে ওই আলু খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী

আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো এক ধরনের ছত্রাক যার নাম হলো Phytopthora Infestans। শুধুমাত্র এই ছত্রাকের আক্রমণে আলু গাছে লেট ব্লাইট অথবা মোড়ক রোগ দেখা যায়। এছাড়া আলু গাছ বড় হওয়ার সময় সাধারণত অতিরিক্ত ঠান্ডা অথবা অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। সাধারণত Phytopthora Infestans নামক ছত্রাকটি আলুর জমিতে লুকায়িত অবস্থায় থাকে।পরবর্তীতে অনুকূল পরিবেশ পেলে অর্থাৎ অতিরিক্ত কুয়াশা বা ঠান্ডা হলে আলু গাছে আক্রমণ করে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের প্রতিকার

আলুর লেট ব্লাইট রোগ থেকে দুইটি উপায়ে প্রতিকার পাওয়া যায়। একটি হলো রোগ লাগার পূর্বে করণীয় এবং রোগ লাগার পরে করনীয়। চলুন তাহলে দুইটি উপায় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

রোগ লাগার পূর্বে করণীয়ঃ
  • নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আলু চাষ করতে হবে অর্থাৎ আগাম আলু চাষ করতে হবে, আগাম আলু চাষ করার মাধ্যমে এই রোগ থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।
  • রোগ সহনশীল জাত চাষ করার মাধ্যমে এই রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়।
  • রোগমুক্ত জাত চাষ করে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • আবহাওয়া খারাপ হলে প্রতিদিন আলুর জমি পরিদর্শন করতে হবে।
  • আলুর বীজ রোপনের সময় সঠিক ভাবে চারা থেকে চারার দূরত্ব এবং সাড়ি থেকে সাড়ির দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
  • সাড়ি থেকে সাড়ির দূরত্ব হবে ৬০ সেন্টিমিটার এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ২৫ সেন্টিমিটার
  • প্রতিটি আলোর সারিতে সুন্দরভাবে মাটি দিতে হবে অর্থাৎ মাটি উঁচু করে দিতে হবে।
  • সেচ দেওয়ার পর যদি আলুর গোড়ার মাটি সরে যায় তাহলে আবারো গোড়ায় মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
  • চারা অবস্থা থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
  • আবহাওয়া খারাপ মনে হলে সাত দিন পর পর মেনকোজেবের সাথে অন্য কোন ভাল মানের ছত্রাকনাশ করতে হবে।
রোগ লাগার পরে করণীয়ঃ
  • আপনার জমিতে অথবা আপনার পাশের জমিতে রোগ দেখা মাত্রই মেনকোজেব গ্রুপের সাথে মেনকোজেব+ মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে।
  • রোগের আক্রমণ বেশি হলে তিন থেকে চারদিন পরপর স্প্রে করতে হবে।
  • রোগ দেখা দিলে গাছের গোড়া সহ সমস্ত গাছ ভালোভাবে ভিজে স্প্রে করতে হবে।
কোন কোন ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
  • ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন( ডাইথেন এম ৪৫, কাফা, ইন্ডোফিল,আশামিল) একরে ৮০০ গ্রাম।
  • মেনকোজেব + মেটালেক্সিল(রিডোমিল গোল্ড,নাজাহ,মেটারিল,নিউবেন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম।
রোগের আক্রমণ বেশি হলেঃ
  • ম্যানকোজেব+ডায়মেথোমর্ফ( কার্জেট এম,হাসিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম। অথবা
  • ম্যানকোজিব+ফেনামিডন(সিকিউর) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম। অথবা
  • ম্যানকোজেব+সাইমক্সানিল(সাইনিল,ইবরা) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম।
যখন কোন কিছুতে আর কাজ হবেনা তখনঃ
  • সাইমক্সানিল+ডায়মেথোমর্ফ (আফনা) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম। অথবা
  • সাইমক্সানিল+ডায়মেথোমর্ফ(ক্যাকটাস) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম।

আলুর লেট ব্লাইট রোগ প্রতিরোধের উপায়

আলুর লেট ব্লাইট রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সবচেয়ে বেশি উত্তম। কারণ রোগ লেগে গেলে এক দিতে যেমন ফসলের ক্ষতি হয় অন্যদিকে তেমন কৃষকের অনেক টাকার ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হয়। কিন্তু যদি আমরা রোগ প্রতিরোধ করি অর্থাৎ আসতে না দেই তাহলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয়। এতে করে সময় ব্যয় টাকা খরচ ও ফসলের ক্ষতি হয় না। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আলুর লেট ব্লাইট রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে।
  • যে জাতের আলুর লেট ব্লাইট রোগ কম হয় সে জাতের চাষ করা।
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু চাষ করা।
  • প্রয়োজনে একটু আগাম আলু চাষ করা যেন পরবর্তীতে এই রোগের আক্রমণ না হয়।
  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচ প্রদান না করা।
  • অপেক্ষাকৃত উচু জমি নির্বাচন করা।
  • পানি জমে থাকেনা এমন জমি নির্বাচন করা।
  • প্রতিবছর একই জমিতে আলুর চাষ না করা।
  • সকালে সেচ দিলে যেন বিকালে শুকিয়ে যায় এমন জমি নির্বাচন করা।
  • গাছে আক্রমণ দেখা দিলে উক্ত গাছ তুলে জমির বাইরে নিয়ে এসে পুড়িয়ে ফেলা।
  • আবহাওয়া খারাপ মনে হওয়া মাত্র ভালো মনের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা।
  • সব সময় জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যেন আগাছা না থাকে।
আলুর-লেট-ব্লাইট-রোগের-জন্য-কত-বার-স্প্রে-করতে-হয়

আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য কত বার স্প্রে করতে হয়

আপনারা অনেকেই জানতে চান আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য কত বার স্প্রে করতে হয়। আলু গাছের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যদি কোন রোগ না লাগে তাহলে সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি স্প্রে করলে আলু চাষ সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু যদি রোগ লাগে তাহলে ৬ থেকে ৭টি অথবা ১০ টি পর্যন্ত স্প্রে করা লাগতে পারে।চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য কত বার স্প্রে করতে হয়।

১ম স্প্রেঃ আলুর বয়স ১২ থেকে ১৫ দিন হলে মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাক নাশক ১ লিটার পানিতে ২ মিলে হাড়ে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ডাইথেন এম ৪৫, কাফা, আসামিল, ইন্ডোফিল,ম্যানজেট,ম্যানকোথেন। কাটুই পোকা দমন করার জন্য এক লিটার পানিতে ২গ্রাম হারে ল্যামডা-সাইহ্যালোথ্রিন অথবা ২মিলি হারে ক্লোরপাইরিফস+সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হবে

২য় স্প্রেঃ আলুর বয়স ১৬ থেকে ২৫ দিন হলে মেনকোজেব+মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাক নাশক এক লিটার পানিতে দুই গ্রাম হরে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। মেনকোজেব+মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাক নাশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-রিডোমিল গোল্ড,নাজাহ,মেটারিল,নিউবেন। এর সাথে সাদা মাসে অথবা জাব পোকা দমন করার জন্য ইমিডাক্লোরেপিড গ্রুপের কীটনাশক যেমন ইমিটাফ,জাদিদ এক লিটার পানিতে এক মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

তৃতীয় স্প্রেঃ আলুর বয়স ২৬ দিন থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত মেনকোজেব+ ডাইমেথোমর্ফ গ্রুপের ছত্রাক নাশক এক লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে সমস্ত গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে করতে হবে। মেনকোজেব+ ডাইমেথোমর্ফ এই গ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এক্রোভেট এমজেট,হাসিন।

চতুর্থ স্প্রেঃ আলুর বয়স ৪১ দিন থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত মেনকোজেব এর সাথে ম্যানকোজেব এর সাথে ম্যানকোজেব+সাইমক্সানিল গ্রুপের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে অথবা কপার হাইড্রোক্সাইড অথবা কপার অক্সি ক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

পঞ্চম স্প্রেঃ ৬১ দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রোগের রোগের প্রাদুর্ভাব অনুযায়ী নাশক স্প্রে করতে হবে। যেমন রোগের আক্রমণ বেশি হলে সাইমক্সোনিল+ ডাইমেথোমর্ফ গ্রুপের ছত্রকোনাশক যেমন ”আফনা” ১ লিটার পানিতে এক গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছ ভালোভাবে ভিজে স্প্রে করতে হবে। এই গ্রুপের আরো যে প্রোডাক্ট আছে তা হল-ক্যাকটাস।

ষষ্ঠ স্প্রেঃ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকলে আবারো আফনা অথবা সিকিউর স্প্রে করতে হবে। অনেক বেশি রোগের আক্রমণ হলে তিন থেকে চারদিন পর পর এই দুটি পণ্যের মধ্যে যেকোনো একটি পণ্য স্প্রে করে যেতে হবে। পাশাপাশি এমিস্টার টপ অথবা তারেদ উপরের দুটি পণ্যর সাথে এক মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য ভালো ছত্রাকনাশক কোনটি

আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য ভালো ছত্রাকনাশক কোনটি এই কথাটি এখন বাংলাদেশের বেশিরভাগ কৃষক জানতে চান। কারণ প্রতিবছর আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণে লাখ লাখ বিঘা আলুর জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে যেসব ছত্রাক নাশক পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ছত্রাকনাশক হলো আফনা। বাজারে যত পণ্য আছে তার মধ্যে এই পণ্যটি বর্তমানে খুবই ভালো কাজ করছে।

এছাড়াও বায়ার কোম্পানির সিকিউর দীর্ঘদিন থেকে আলুর লেট ব্লাইট রোগ দমনে কার্যক্রম ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়াও ক্যাকটাস অথবা হাসিন এই পণ্যগুলো আলুর লেট ব্লাইট রোগ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গতবছর সারা বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে এই রোগের আক্রমণ হয়েছিল। যারা শুরু থেকে আফনা ব্যবহার করেছিল তাদের জমিতে এই রোগে আক্রমণ হয়নি। তাই এক কথায় বলা যায় আলুর লেট ব্লাইট রোগ দমনে সবচেয়ে ভালো ছত্রাক নাশক হলো আফনা।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণ লক্ষণ ও সঠিক সমাধান সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ আলুর লেট ব্লাইট রোগের প্রতিকার কি?
উত্তরঃ আলুর লেট ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়া মাত্রই আফনা ৫০ ডব্লিউপি নামক ছত্রাকনাশক তিন থেকে চার দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

প্রশ্নঃ লেট ব্লাইট রোগে আলু কি খাওয়া যাবে?
উত্তরঃ সাধারণত আলুর জমিতে লেট ব্লাইট রোগ আসার পরে যদি রোগ নিয়ন্ত্রন না করতে পারেন তাহলে সেই আলু না খাওয়াই ভালো, কারন লেট ব্লাইট রোগ শেষ পর্যায়ে যেয়ে আলুতে আক্রমণ করে এবং আলু কালো হয়ে যায় এসব আলু না খাওয়াই ভালো।

প্রশ্নঃ আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী কোনটি?
উত্তরঃ আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো এক ধরনের ছত্রাক নাশক যার নাম হলো-Phytopthora Infestans। এছাড়াও অতিরিক্ত কুয়াশা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা এই রোগের জন্য দায়ী।

প্রশ্নঃ লেট ব্লাইট রোগ থেকে মুক্তির উপায়?
উত্তরঃ আলুর লেট ব্লাইট রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে রোগের লক্ষণ দেখা যাওয়া মাত্রই আফনা নামক ছত্রাকনাশক এক লিটার পানিতে এক গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছ ভালোভাবে ভিজে স্প্রে করতে হবে।

প্রশ্নঃ আলুতে লেট ব্লাইট রোগ হলে কি করবো?
উত্তরঃ আলুতে লেট ব্লাইট রোগ হলে নিয়মিত ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। রোগ হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ভালো মনের ছত্রাক নাশক যেমন হতে পারে আফনা অথবা সিকিউর অথবা ক্যাকটাস স্প্রে করতে হবে।

প্রশ্নঃ লেট ব্লাইট রোগ কি মানুষের জন্য ক্ষতিকর?
উত্তরঃ লেট ব্লাইট রোগে আক্রান্ত আলু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কারণ আক্রান্ত স্থানে সিসা সহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকে।

শেষ কথা: আলুর লেট ব্লাইট বা মোড়ক রোগের কারণ লক্ষণ ও সঠিক সমাধান

উপরের আলোচনা থেকে আপনারা জানতে পারলেন আলুর লেট ব্লাইট কেন হয় লক্ষণ কি ও এর সঠিক সমাধান কি। আশা করি আপনারা উপরের আলোচনা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আলুর যতগুলো রোগ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ হচ্ছে লেট ব্লাইট। প্রতিবছর বাংলাদেশের কোন না কোন জেলাতে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে এ রোগের আনাগোনা বেশি।

আলুর লেট ব্লাইট রোগ সাধারণত ছত্রাকের দ্বারা হয়ে থাকে। প্রচন্ড শীত ও প্রচন্ড কুয়াশার কারণে এই রোগ দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং দ্রুত আলুর ক্ষতি করে। আলুর বয়স ১৫ থেকে ২৫ দিন হলে নিয়মিত আলুর গাছে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। ম্যানকোজেব দিয়ে শুরু করতে হবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ছকনাশক ব্যবহার করার পাশাপাশি লেট ব্লাইট দমনে আফনা নামক ছত্রাক নাশক ব্যবহার করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এট্রাকশন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url