জৈব বালাইনাশক কি - জৈব বালাইনাশকের তালিকা ২০২৫

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখন জানতে চায় জৈব বালাইনাশক কি এবং জৈব বালাই নাশকের তালিকা ব্যবহার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে। প্রতিনিয়ত ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়।
জৈব-বালাইনাশক-কি - জৈব-বালাইনাশকের-তালিকা-২০২৫
বেশিরভাগ কৃষকরা রাসায়নিক বালা নাশক ব্যবহার করে থাকেন। রাসায়নিক বালাইনাশক পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই এখন সময় এসেছে রাসায়নিক বালাই নাশক ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করার। তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে জৈব বালাইনাশক কি এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ জৈব বালাইনাশক কি - জৈব বালাইনাশকের তালিকা ২০২৫

জৈব বালাইনাশক কি

জৈব বালাইনাশক বলতে এক ধরনের প্রাকৃতিক জৈব পদার্থ কে বোঝায় যা প্রকৃতিতে ক্ষতিকর সকল বালাই সফলভাবে দমন করতে সাহায্য করে। জৈব বালাইনাশক সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, নিমাটোড ও অন্যান্য উপাদান থেকে তৈরি করা হয়। যেহেতু এই বালাইনাশক সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় তাই এটা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং কোনভাবেই ক্ষতিকর নয়।

জৈব বালাইনাশকের তালিকা ২০২৫

আমাদের দেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের জৈববালাইনাশক পাওয়া যায়। অনেক কিছু কি এখনো জানেন না বাংলাদেশে কি কি জৈব বালাইনাশক পাওয়া যায়। তাই এখন আমরা আপনাদেরকে জানাবো বাংলাদেশে যেসব জৈব বালাইনাশক পাওয়া যায় তার তালিকা ২০২৫ সম্পর্কে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আমাদের দেশে যেসব জৈব বালাইনাশক পাওয়া যায় তার তালিকা সম্পর্কে।

আপনি নিজে ঘরে বসে বেশ কয়েকটি বালাইনাশক তৈরি করতে পারবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-নিম তেল, রসুন দিয়ে জৈব বালাইনাশক, মেহগনির ফল দিয়ে জৈব বালাইনাশক, তামাকের গুঁড়া দিয়ে জৈব বালাইনাশক। এগুলো আপনি নিজে ঘরে বসে খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন। তবে এগুলো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা মেনে তারপরে ব্যবহার করতে হবে।

বর্তমানে আমাদের দেশে ইস্পাহানি ও ‍এসআই সহ বেশিরভাগ কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের জৈব বালাইনাশক উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করেছেন। যেগুলো বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়।পরিবেশের উপর কীটনাশকের প্রভাব কমানোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে জৈববালাইনাশক এর ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলছে। কোন কোম্পানি কোন নামে জৈববালাইনাশক সরবরাহ করছে সেগুলো দেখে নেয়া যাক।
জৈব-কীটনাশক-কিভাবে-ব্যবহার-করতে-হয়

জৈব কীটনাশক কিভাবে ব্যবহার করতে হয়

আপনারা অনেকেই জানতে চান জৈব বালাইনাশক কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। জৈব বালাইনাশক অন্যান্য বালাইনাশক মতোই ব্যবহার করতে হয়। জৈব বালাইনাশক সাধারণত দুইভাবে প্রয়োগ করা যায় ১. পাতায় স্প্রে ২. গাছের গোড়ায়।জৈব বালাইনাশক দিয়ে পোকা দমন করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব বালাইনাশক মিশিয়ে নিয়ে ফসলে স্প্রে করতে হবে।

আপনি যেসব জৈব বালাইনাশক বাসায় বসে নিজে তৈরি করবেন সেগুলোর ক্ষেত্রে মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জৈব বালাইনাশক কোনভাবেই পরিমাণে বেশি হলে সেটা ফসলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক কোম্পানি জৈব বালাইনাশক বাজারে বাণিজ্যিক আকারে বিক্রি করতেছেন। সেইসব প্যাকেটের গায়ে কত লিটার পানিতে কতটুকু মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে তা উল্লেখ করা আছে। সেই মাত্রা অনুযায়ী ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের সুবিধা

বর্তমানে আমাদের দেশে রাসায়নিক বালাইনাশক এত পরিমাণ ব্যবহার হচ্ছে যে পরিবেশের ভারসাম্য অনেক বেশি নষ্ট হচ্ছে। যার কারণে বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ জৈব বালাইনাশক ব্যবহার দিকে ছুটছেন। তবে আপনারা অনেকেই জানতে চান জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের সুবিধা কি। জৈব বালাইনাশক রোগ পোকা দমনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে।
  • পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় না অর্থাৎ বজায় থাকে।
  • মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
  • মাটিতে বসবাসকারী উপকারী পোকামাকড়ের কোন ক্ষতি হয় না।
  • নিরাপদ ফসল উৎপাদন করতে সাহায্য করে।
  • সহজেই বাসায় বসে তৈরি করা যায়।
  • তুলনামূলকভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক এর তুলনায় জৈব বালাইনাশক এর দাম কম।
  • শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পোকা দমন করে অন্য কোন পোকার ক্ষতি করে না।
  • মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • মানুষ ও পশু পাখির জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
  • জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করার কিছুক্ষণ পরেও ফসল সংগ্রহ করা যায়।

জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের অসুবিধা

জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে যেমন সুবিধা আছে তেমন কিছু কিছু অসুবিধা আছে। তাই আমাদের জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের অসুবিধা সম্পর্কে সবারই জানা প্রয়োজন। এটি পরিবেশের জন্য অনেক বেশি ভালো হলেও জৈব বালাইনাশক সংগ্রহ করা খুবই কষ্টকর। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কি কি অসুবিধা হতে পারে।
  • রাসায়নিক বালাই নাশকের তুলনায় দাম একটু বেশি।
  • জৈব উপাদান সংগ্রহ করা কষ্টকর।
  • জৈব উপাদান সংগ্রহ করা গেলেও সেগুলো তৈরি করা কষ্টকর।
  • জৈব বালাইনাশক তৈরি করার পর সঠিক ডোজ না মেনে ব্যবহার করলে ক্ষতি হতে পারে।
  • রাসায়নিক বালাইনাশকের তুলনায় জৈব বালাইনাশক কিছুটা ধীরে কাজ করে।
জৈব-বালাইনাশক-কত-প্রকার

জৈব বালাইনাশক কত প্রকার

জৈব বালাইনাশক কত প্রকার এই বিষয়ে আপনারা অনেকেই সঠিক তথ্য জানতে চান। আমাদের দেশে কয়েক রকমের জৈব বালাইনাশক পাওয়া যায়। আবার অনেক কৃষক একেবারেই জানেন না জৈব বালাইনাশক কত প্রকার। তাই চলুন আজকে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যাক জৈব বালাইনাশক কত প্রকার ও কি কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

জৈব বালাইনাশক সাধারণত তিন প্রকার। যেমন- ১. প্রাণিজ জৈব বালাইনাশক ২. উদ্ভিদ জৈব বালাইনাশক ৩. অনুজীব দ্বারা তৈরি জৈব বালাইনাশক। যেসব জৈব বালাইনাশক বিভিন্ন প্রাণী থেকে উৎপাদন করা হয় তাদেরকে বলা হয় প্রাণিজ জৈব বালাইনাশক যেমন- নেমাটয়েড বা অন্যান্য প্রাণী। যেসব জৈব বালাইনাশক বিভিন্ন উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয় তাকে উদ্ভিদজ জৈব বালাইনাশক বলে।

যেমন নিম গাছ থেকে তৈরি জৈব বালাইনাশক অথবা মেহগনি গাছ থেকে তৈরি জৈব বালাইনাশক।যেসব জৈব বালাইনাশক বিভিন্ন অণুজীব থেকে তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় অনুজীব জৈব বালাইনাশক। যেমন- বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। এছাড়া কাজের ধরন ও উপাদান অনুযায়ী আরো বিভিন্ন ধরনের জৈব বালাইনাশক থাকতে পারে।

জৈব কীটনাশক কতটা ক্ষতিকর

আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চান জৈব কীটনাশক কতটা ক্ষতিকর। জৈব কীটনাশক মানুষ এবং পরিবেশের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয় বরং অনেক উপকারী। কারণ জৈব কীটনাশক শুধুমাত্র ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমন করতে সাহায্য করে। কোনভাবেই এটি উপকারী পোকার ক্ষতি করে না। জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা ফসল যেকোনো সময় তুলে সেগুলো খাওয়া যায়। পক্ষান্তরে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা ফসল বেশ কয়েকদিন পরে খেতে হয়।

যেসব কৃষক জৈব কীটনাশক ব্যবহার করবেন তারা কখনোই শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। কারণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে মানুষের শরীরে অর্থাৎ অসাবধানতাবশত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই এক কথায় বলা যায় জৈব কীটনাশক ফসল সুরক্ষা করে মানুষের স্বাস্থ্য ভালোরাতে সাহায্য করে এবং পরিবেশ ভালো রাখে তাই জৈব কীটনাশক ক্ষতিকর নয়।

FAQ/ সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

জৈব কীটনাশক কি?
জৈব কীটনাশক হলো এমন এক ধরনের কীটনাশক যেগুলো বিভিন্ন ধরনের জীব উদ্ভিদ অথবা অনু জীব থেকে তৈরি করা হয়। যেগুলো ব্যবহার করার ফলে ফসল সুরক্ষা থাকে এবং মানুষ ও পরিবেশ ভালো থাকে।

জৈব কীটনাশক কি দিয়ে তৈরি করা হয়?
জৈব কীটনাশক বিভিন্ন ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। যেমন নিম গাছের পাতা ডাল এবং শিকড় দিয়ে জৈব কীটনাশক তৈরি করা যায়। আবার মেহগনির ফল দিয়ে জৈব কীটনাশক তৈরি করা যায়।এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ অনুজীব ও প্রাণিজ থেকে জৈব কীটনাশক তৈরি করা যায়।

জৈব বালাইনাশক কি?
রাসায়নিক উপাদান ব্যতীত জৈব উপাদান দিয়ে যেসব বালাই নাশক তৈরি করা হয় তাকেই জৈব বালাইনাশ বলে।

জৈব কীটনাশক ফসলে কি স্প্রে করা যায়?
জৈব কীটনাশক অবশ্যই ফসলে স্প্রে করা যায়। তবে এটি স্প্রে করার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে প্রয়োগ করা যায়। জৈব কীটনাশক যেকোনো ধরনের পোকা দমনের জন্য সহজে গাছে স্প্রে করা যায়।

জৈব কীটনাশক তৈরিতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
জৈব কীটনাশক তৈরিতে বেশ কয়েকটি উপাদান ব্যবহার করা হয়। যেমন নিমপাতা, মেহগনির ফল।

শেষ কথাঃ জৈব বালাইনাশক কি - জৈব বালাইনাশকের তালিকা ২০২৫ সম্পর্কে জানুন

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম জৈব বালাইনাশক কি। আশা করি উপরের আলোচনা থেকে আপনারা বুঝতে পেরেছেন। জৈব বালাইনাশক নাশক হলো এমন এক ধরনের বালাইনাশক যেগুলো বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, অনুজীব ও প্রাণী থেকে তৈরি করা হয়। এগুলো একদিকে যেমন ফসলের রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

জৈব বালাইনাশকের তালিকা আসলে অনেক বড়। বর্তমানে আমাদের দেশে ব্যক্তিগত উদ্বেগের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি অনেক রকম জৈব বালাইনাশক আমদানি করতেছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জৈব বালাইনাশক বাজারজাত করছেন ইস্পাহানি কোম্পানি। বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে থাকুন। কারণ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এট্রাকশন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url